অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইমার্জিং টেকনোলজির পূর্ণ ব্যবহার জরুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ০১:৪২:০০ মিনিট, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০১৮

 

ক্লাউড কম্পিউটিং, ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি), আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, রোবোটিকস ও ব্লকচেইন প্রযুক্তি অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে। উন্নত দেশগুলোয় জিডিপির একটা বড় অংশ দখলে নিচ্ছে এসব ইমার্জিং টেকনোলজি, যা আগামী কয়েক বছরে সিংহভাগ জায়গা দখলে নেবে। বাংলাদেশের অর্থনীতিকেও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে নিতে ইমার্জিং টেকনোলজির পূর্ণ ব্যবহার করতে হবে।

‘অ্যাডাপ্টিং ইমার্জিং টেকনোলজিস ফর এক্সপোনেনশিয়াল ইকোনমিক গ্রোথ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন বক্তারা। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে চলমান বেসিস সফট এক্সপো ২০১৮-এর অংশ হিসেবে গতকাল বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। যৌথভাবে বৈঠকটির আয়োজন করে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল অ্যান্ড প্রাইভেট ইকুইটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ভিসিপিইএবি) ও দি ইন্ডাস এন্ট্রাপ্রেনারস (টিআইই) ঢাকা। আয়োজনে মিডিয়া পার্টনার ছিল বণিক বার্তা। বৈঠকে দুটি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার। তিনি বলেন, আমাদের আইসিটি বা টেলিকম সেক্টরে যেসব দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারী রয়েছেন, তারা কিন্তু এখনো অনেকগুলো বিষয়ে অন্ধকারের মধ্যে আছেন। আমরা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আমন্ত্রণ জানালে তারা সবার আগে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ধরনের তথ্য চান। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, আমরা তাদের সে ধরনের তেমন তথ্য দিতে পারি না। আমাদের দ্রুত এ ধরনের সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এজন্য আমাদের যেমন ভূমিকা রাখতে হবে, তেমনি খাতটি নিয়ে যারা কাজ করছেন, তাদেরও এগিয়ে আসা দরকার।

সড়ক পরিবহন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, প্রশিক্ষণ, ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স, জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে ইমার্জিং প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ইমার্জিং টেকনোলজির বিষয়গুলো আমরা যদি এসব জায়গায় পরিপূর্ণভাবে ব্যবহার করতে পারি, তাহলে খাতগুলোয় অনেক এগিয়ে যাব।

বেসিসের সাবেক সভাপতি ও ই-জেনারেশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান শামীম আহসানের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের উপদেষ্টা এসকে সুর চৌধুরী বলেন, আমরা যে ইন্টারনেটের অ্যাকসেসটা দিতে পেরেছি, এ অ্যাকসেসটাই আমাদের জীবনকে অনেক সহজ করে তুলেছে। দেশের বিভিন্ন সেক্টরে ইমার্জিং টেকনোলজির ব্যবহার বাড়াতে হলে সেলফোনের সক্ষমতা আরো বৃদ্ধি করতে হবে। পাশাপাশি প্রযুক্তি ব্যবহারের খরচও কমিয়ে আনার ওপর জোর দিতে হবে।

ইমার্জিং টেকনোলজির পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমান অংশগ্রহণের পক্ষে মত দিয়ে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন।

বৈঠকে আরো বক্তব্য রাখেন সিটিও ফোরামের সভাপতি তপন কান্তি সরকার, এজি অটোমোবাইলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সাবেক সভাপতি হোসেন খালেদ প্রমুখ।